IMG-LOGO

দা ক্রিয়েশন অফ বিটকয়েন এন্ড ব্লক চেইন

saske34 - 2026-05-24 06:53:48

আচ্ছা,আমরা যে বিটকয়েন ব্যাবহার করছি ,এর মার্কেট এর সিস্টেম কিভাবে কাজ করে তা আমরা আগের আলোচনায় জানলাম.আচ্ছা,একবার এইটা চিন্তা করে দেখেছি কি যে এই বিটকয়েন তা আসলে কি?এটি কে আবিষ্কার করে?আগের আলোচনায় আমরা জেনেছিলাম যে বিটকয়েন বিকেন্দ্রীভূত.কিন্তু কেন এটি বিকেন্দ্রভূত ?চলন জেনেনেই এর আসল রহস্য /ইতিহাস কি?


                                                 বিটকয়েন কি?

বিটকয়েন.এটি হচ্ছে অনেক গুলো,বলতে গেলে পৃথিবীর যাবতীয় যত গণিতের সূত্র আছে ,সেই সব গাণিতিক সূত্র এর ওপর ভিত্তি করে তৈরিকৃত একটি ডিজিটাল মুদ্রা.যেহেতো পৃথিবীতে আর কোনো গণিতের সূত্র আবিষ্কার বা তৈরী হবে না,তাই বিটকয়েন এর কোডেও আর নতুন কোনো গাণিতিক সূত্র আসবে না,ফলে নতুন করে আর কোনো বিটকয়েন ও ক্রিয়েট হবে না.সারা পৃথিবীতে মাত্র একুশ মিলিয়ন বিটকয়েন আছে,এর মধ্যে বিষ মিলিয়ন বিটকয়েন মাইনিং এর মাদ্ধমে বাজারেণা হয়েছে,বাকি এক মিলিয়ন মাইনিং করে আন্তে প্রায় 2040 শাল পর্যন্ত সময় লাগবে.তাই এটি একটি লিমিটেড এসেস্ট,যা বর্তমানে একটি গ্লোবাল এসেস্ট এ পরিণত হচ্ছে.[বলে রাখা ভালো,যে মাইনিং বলতে নিউ বিটকয়েন ক্রিয়েট করা নয়,বরং একুশ মিলিয়ন বিটকয়েন যেখানে অর্থাৎ যেই ভল্টে জমা আছে সেখানথেকে বাহির করা বা আনলক করা.সাতোশি নাকামোতো এই বিটকং গোল ক্রিয়েট করে একটি ইন্টারনেট ভল্টে রেখে দিয়েছিলেন,ফলে বিটকয়েন হাল্ভিং বা মাইনিংএর মাদ্ধমে এটি ভোল্ট থেকে বাহির করে বাজারে আনা হচ্ছে.]প্রতিটি বিটকয়েন মাইনিং করতে প্রায় 10 মিনিট সময় লাগে যে হালবিঙের কারণে আরো বাড়বে.[এখানে গণিতের সূত্র আর নতুন করে তৈরী হবে না ,কারণ আসলেই যদি এমন হতো তাহলে আজকের দুনিয়া এতো ভালো করে টিকে থাকতো না.আজকের দুনিয়া টিকে আছে শুধু গণিতের সূত্রের ওপরে.তাই যদি কোনো সূত্র আবিষ্কার না হতো ,তাহলে সব কিছু এতো নিখুঁত ভাবে হতো না.]2008 সালে সাতোশি নাকামোটোর নামের এক ছদ্ধ বেশী ব্যাক্তি ক্রিপ্টোগ্রাফি মেইলিং লিস্টে বিটকয়েন হোয়াইটপেপার (Bitcoin Whitepaper) প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল "Bitcoin: A Peer-to-Peer Electronic Cash System"。2009 এ এর জন্ম হয় এবং প্রথম 'জেনেসিস ব্লক' (Genesis Block) মাইনিং করা হয়। প্রথম লেনদেনটি সাতোশি নাকামোতো এবং হাল ফিনির মধ্যে সম্পন্ন হয়।2010 সালে এর বাস্তব লেনদেন হয়.১০,০০০ বিটকয়েনের বিনিময়ে দুইটি পিৎজা কেনা হয়, যা এখন বিশ্বজুড়ে 'Bitcoin Pizza Day' (২২ মে) হিসেবে উদযাপিত হয়।২০১১ সালে বিটকয়েনের মূল্য প্রথমবারের মতো ১ মার্কিন ডলারের সমকক্ষ হয়। এই বছরই সাতোশি নাকামোতো প্রজেক্টটি অন্য ডেভেলপারদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আড়ালে চলে যান。আজ পর্যন্ত তার কোনো হদিশ পাওয়া যায় নাই.এখন তিনি কেন এমনটি করলেন?তিনি কি আসলেই এটি কোনো ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে করলেন নাকি এর পিছনে কোনো খারাপ লক্ষ্য আছে?এ নিয়ে আমরা সামনে বিস্তারিত আর আলোচনা করবো.এখন আপনাদের মনে এইটা প্রশ্ন আস্তে পারে যে ,বিটকয়েনের ক্রিয়েটর যদি হটাৎ উধাও হয় যায় তাহলে যেহেতো সে এটি তৈরী করেছে,তাহলে তার কাছে তো এর প্রকৃত কোডডটি থাকে ফলেসে চাইলে গণিতকি সূত্রের কড পরিবর্তন করে এমন কড আন্তে পারে যা নতুন বিটকয়েন ক্রিয়েট টোরি করতে পারে.সেটা সে গোপনে নিজের স্বার্থের জন্য করতে পারে?ফলে সেটা যে আজীবন বিকেন্দ্রীভূত থাকবে তার গ্যারান্টি কোথায়?আপনাদের যাদের মনে এই প্রশ্নটি আসে ,যাদের জন্য সহজ উত্তর হলো "না ".কারণ সাতোশি নাকামোতো এখন নিজেও চাইলে সেটি পরিবর্তন করতে পারবে না.তার কারণ নিচে দেয়া হলো :-

১. সোর্সফোর্জ এবং প্রথম প্রকাশ (২০০৯)সাতোশি ২০০৯ সালে বিটকয়েনের প্রথম কোড 'SourceForge' নামক একটি ওপেন সোর্স ওয়েবসাইটে আপলোড করেন।এটি একটি পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ছিল, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ বিনামূল্যে কোডটি দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারত।

২. গিটহাব-এ স্থানান্তর (২০১১)পরবর্তীতে বিটকয়েনের কোডটি 'GitHub' (গিটহাব) প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হয়, যা আজ Bitcoin Core নামে পরিচিত।গিটহাব হলো সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত ওয়েবসাইট।ইন্টারনেট সংযোগ থাকা যেকোনো সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় এই লিঙ্কে গিয়ে পুরো কোডটি দেখতে ও নিজের কম্পিউটারে কপি করতে পারেন।

৩. কোডটি রান করার স্বাধীনতা :-কোডটি শুধু দেখার জন্য নয়, এটি ব্যবহার করার স্বাধীনতাও সবার আছে।আপনি চাইলে আজই বিটকয়েনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (bitcoin.org) থেকে সফটওয়্যারটি নামিয়ে আপনার কম্পিউটারে চালাতে পারেন।এর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারটি বিটকয়েন নেটওয়ার্কের একটি অংশ বা নোড (Node) হয়ে উঠবে।

৪. ওপেন সোর্স লাইসেন্স (MIT License):-সাতোশি বিটকয়েনকে 'MIT লাইসেন্স'-এর অধীনে প্রকাশ করেছিলেন।এই আইনি লাইসেন্সের অর্থ হলো—যেকোনো মানুষ এই কোড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার, পরিবর্তন, এবং বাণিজ্যিক কাজেও লাগাতে পারবে।এর ওপর কারো কোনো কপিরাইট বা মালিকানা নেই। [পরিবর্তন কেউ একলা করতে পারবে না,কারণ লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে.]


সহজ কথায়, সাতোশি কোডটি কোনো লকার বা গোপন জায়গায় রেখে যাননি। তিনি এটিকে ইন্টারনেটের একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে রেখে গেছেন, যেন পৃথিবীর প্রতিটি সাধারণ মানুষ এর মালিক হতে পারে।

এই থেকে বোঝা যায় যে সাতশ নাকামোটোর কন্ট্রোলে এখন আর বিটকয়েন এর কড নাই.সেটি আমার আপনারা সবার কন্ট্রোলে চলে গেছে,আর যেই জিনিষটা বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকে সেটিই হয় নিয়ন্ত্রণ হীন. আপনাদের বোঝার জন্য ছোট একটি উদাহরণ দেয়া হলো :-

ধরা যাক ,একটি সিন্দুক.সেই সিন্দুকের ভিতরে অনেক গরুত্ব পূর্ণ জিনিস আছে.সেই সংদোক্তির নিরাপত্তার জন্য 10 জনকে 10 টি তালা -চাবি দেয়া হলো. তার সিদ্ধান্ত নিলো যে ওই মালিক তারা 10 জন হবে.তাই তারা প্রত্যকের তালা সিন্দুকে ঝুলিয়ে নিজেদের ছবি নিজেদের হেফাজতে রাখলো.এখন কোনো ব্যাক্তি অর্থাৎ ,ওই দশ জনের মধ্যে কোনো একজন যদি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে সিন্দুকটি খোলতে চায় ,তাহলে সে বাকি নয় জনের সম্মতি ছাড়া কি সিন্দুকটি খোলতে পারবে?অবশ্যই না.কারণ নিজের তালা আনলক করলেও বাকি নয় জনের তালা এখন ঝুলছে.ফলে সিন্দুকটি খুলে যাচ্ছে না.ফলে সিন্দুকের ভিতরে থাকা আর কোনো জিনিসের পরিবর্তন হচ্ছে না.[বলে রাখা ভালো ,যে সিন্দুকের তালা ভাঙা যায়,কিন্তু বিটকয়েনের তালা নয়.কারণ এর তালা হলো ব্লক চেন আর নোডসদের সম্মতিই হলো সেই চাবি,যা আমরা আরো বিস্তারিত জন্য সামনে.]ঠিক একইভাবে বাকি নয় জনের তালা খুলেও এক জনের তালা ঝুলে সিন্দুকটি খোলা যাবে না.ঠিক একই ঘটনা বিটকয়েনের ক্ষেত্রে ঘটে.কথার কথা,10 জন নোডসদের মধ্যে কেউ একজন বিটকয়েনের কড পরিবর্তন করতে চাইলে বাকি নয় জনের সম্মতি ছাড়া পারবে না,কারণ তারা তা দেয়া কোডটি গ্রহণ করবে না,ফলে সে নিজের কম্পিউটারে সেই নতুন কোডটি রান করলেও আসল চীনের কিছু হবে না,ফলে একটা হার্ড ফর্ক হবে.এ নিয়ে আমরা সামনে বিস্তারিত জানবো .আচ্ছা আমরা তো জানলাম যে বিটকয়েনের তালা হলো ব্লক চেইন আর চাবি হলো নোডস.এখন আমরা কি ইটা জানিযে এগোলো কি বা কিভাবে কাজ করে.চলন জেনে নেই .

ব্লকচেইন (Blockchain) কী?

ব্লকচেইন হলো একটি বিকেন্দ্রীকৃত (Decentralized), অপরিবর্তনযোগ্য (Immutable) এবং ডিজিটাল খাতা বা লেজার (Ledger) । এটি এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে সমস্ত লেনদেনের তথ্য ক্রিপ্টোগ্রাফিক সুরক্ষার মাধ্যমে ছোট ছোট 'ব্লক' আকারে একটির পর একটি চেইন বা শিকলের মতো যুক্ত থাকে । এখানে কোনো ব্যাংক বা সেন্ট্রাল সার্ভার থাকে না, ফলে একবার কোনো তথ্য রেকর্ড হলে তা কেউ পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে পারে না


এবার জানতে হবে নোড (Node) কী? ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত এবং একই সফটওয়্যার (যেমন: Bitcoin Core) পরিচালনাকারী প্রতিটি স্বতন্ত্র কম্পিউটার বা ডিভাইসকে এক একটি নোড বলা হয়। নোডের মূল কাজ হলো নেটওয়ার্কে আসা প্রতিটি ট্রানজেকশন এবং নতুন তৈরি হওয়া ব্লকগুলো আসল কি না এবং নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা ও যাচাই করা। নোডগুলো পুরো ব্লকচেইনের একটি সম্পূর্ণ কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করে নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ও সততা পাহারা দেয়।

এবং মাইনার (Miner) কী? মাইনার হলো ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের এক বিশেষ ধরনের নোড বা ব্যবহারকারী, যারা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং হার্ডওয়্যার (যেমন ASIC বা GPU) ব্যবহার করে জটিল গাণিতিক ধাঁধার সমাধান (Proof of Work) করার মাধ্যমে নতুন ব্লক তৈরি ও চেইনে যুক্ত করে। এই ব্লক তৈরির কঠিন পরিশ্রম ও বিদ্যুৎ খরচের পুরস্কার হিসেবে তারা নেটওয়ার্ক থেকে নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি (Block Reward) এবং ট্রানজেকশন ফি লাভ করে।


এবার আপনাদের মনে ইটা প্রশ্ন আস্তে পারে যে এই বলোকচিন কি কোনভাবে কংট্রোলড না বা এটাকে কেউ কি চাইলেই হ্যাক করতে পারে না?একদম সহজ উত্তর " না ".কারণ এর কোনো সেন্ট্রাল সার্ভার নাই.তাহলে আবার প্রশ্ন আস্তে পারে যে সার্ভার ছাড়া এরা কাজ কিভাবে করে আর একে ওপরের সাথে যোগাযোগ বা কিভাবে করে?tai আপনাদের বোঝা জন্য নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :-

কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার ছাড়া নোডের যোগাযোগ কিভাবে হয় এবং এর নিরা পাত্তা কি?

কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার (Central Server) ছাড়াই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিটকয়েন নোডগুলো মূলত পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) নেটওয়ার্ক এবং গসিপ প্রোটোকল (Gossip Protocol)-এর মাধ্যমে একে অপরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখে। যখন একজন নতুন ব্যবহারকারী নিজের কম্পিউটারে বিটকয়েনের অফিশিয়াল সফটওয়্যার 'Bitcoin Core' ইনস্টল করেন, তখন সফটওয়্যারে আগে থেকে যুক্ত থাকা কিছু স্থায়ী নোডের (DNS Seeds) তালিকার মাধ্যমে সাধারণ ইন্টারনেটের সাহায্যে তিনি নেটওয়ার্কে যুক্ত হন। এরপর একটি নোড কোনো নতুন লেনদেন বা ব্লকের তথ্য পাওয়া মাত্রই তা তার চারপাশের ৩-৪টি নোডকে জানিয়ে দেয় এবং সেই নোডগুলো আবার তাদের পরিচিত নোডগুলোকে জানায়; ঠিক এভাবেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো পৃথিবীর লাখ লাখ কম্পিউটারে তথ্যটি ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক যেভাবে একটি পাড়ায় কোনো খবর বা গুজব ছড়ায়।


এখন আপনাদের মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে,কেউ কি চাইলে এই 'Bitcoin Core' সফটওয়্যার বা পুরো নেটওয়ার্কটিকে জ্যাম বা ধ্বংস (Destroy) করে দিতে পারে? উত্তর হলো—না, একক কোনো ব্যক্তি, হ্যাকার বা শক্তিশালী সরকারের পক্ষেও এটি করা অসম্ভব। কোনো হ্যাকার যদি বিশ্বের হাজার হাজার নোডের ওপর সাইবার আক্রমণ (যেমন DDoS Attack) চালিয়ে সেগুলোকে সাময়িকভাবে 'জ্যাম' বা নিষ্ক্রিয় করে দেয়, তাহলেও নেটওয়ার্কের অন্য প্রান্তে সচল থাকা বাকি হাজার হাজার নোড ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন চালু রাখবে। পুরো বিটকয়েন নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে হলে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় সচল থাকা লাখ লাখ কম্পিউটারে একসাথে ঢুকে এই সফটওয়্যারটি মুছে ফেলতে হবে এবং একই সাথে পুরো পৃথিবীর ইন্টারনেট কানেকশন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হবে, যা কার্যত অসম্ভব। এমনকি ইন্টারনেট আংশিক বন্ধ হলেও নোডগুলো ব্লকিং এড়াতে স্যাটেলাইট (যেমন Blockstream Satellite) বা রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে সরাসরি বিটকয়েন ব্লকচেইনের ডেটা সিঙ্ক বা আদান-প্রদান করতে পারে। তাই পৃথিবীর অর্ধেক নোড ধ্বংস হয়ে গেলেও বাকি বেঁচে থাকা নোডগুলোর মাধ্যমেই বিটকয়েন নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং অক্ষত অবস্থায় আবার চলতে শুরু করবে।কেউ যদি নিজের কম্পিউটারে বিটকয়েন কোরের (Bitcoin Core) মূল কোড বা নিয়ম পরিবর্তন করে তা চালু করে, তবে সে সাথে সাথে আসল বিটকয়েন (BTC) নেটওয়ার্ক বা চেইন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন (Disconnected) হয়ে যাবে। ব্লকচেইনের ভাষায় একে ‘হার্ড ফোর্ক’ বলা হয়। কোড বদলানোর পর ওই ব্যক্তির কম্পিউটারটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং সমান্তরাল একটি নতুন চেইন তৈরি করে ফেলে। কিন্তু বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে থাকা বাকি লাখ লাখ সৎ নোড যখন দেখে যে এই নতুন কম্পিউটারের নিয়মগুলো আসল নিয়মের সাথে মিলছে না, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সাথে সমস্ত ডেটা আদান-প্রদান বন্ধ করে দেয়। ফলে হ্যাকার বা কোড পরিবর্তনকারী ব্যক্তি নিজের তৈরি করা সেই চেইনে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে। যেহেতু বাজারে বা কোনো এক্সচেঞ্জে সেই চেইনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা, ব্যবহারকারী বা ক্রেতা থাকে না, তাই তার তৈরি করা সেই নতুন কয়েনের আর্থিক মূল্য হয়ে যায় একদম শূন্য (০) টাকা।যেমন :-bch[বিটকয়েন ক্যাশ ]এটি 1 আগস্ট ,2017 সালে হয়.এর মূল কারণ গোল হলো,


মূল কারণ (Scalability Dispute): বিটকয়েনের মূল ব্লকের সাইজ ছিল মাত্র ১ মেগাবাইট (1 MB) । নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারী বাড়ার কারণে লেনদেন ধীরগতির হয়ে যাচ্ছিল এবং গ্যাস ফি বেড়ে যাচ্ছিল ।দুই পক্ষের বিতর্ক: বিটকয়েন কমিউনিটির একদল ডেভেলপার ও বড় মাইনার চাইলেন ব্লকের সাইজ বাড়িয়ে ৮ মেগাবাইট (8 MB) করতে, যাতে প্রতি সেকেন্ডে বেশি লেনদেন প্রসেস করা যায় । কিন্তু মূল ডেভলপার ও সাধারণ নোড পরিচালনাকারীরা নিরাপত্তার স্বার্থে এর বিরোধিতা করেন ।চেইনের বিভাজন: দুই পক্ষ একমত হতে না পারায় ২০১৭ সালের ১ আগস্ট বড় মাইনাররা (যেমন- Bitmain কোম্পানি) কোড পরিবর্তন করে নতুন ৮ মেগাবাইট ব্লকের চেইন চালু করে দেন, যার নাম দেওয়া হয় Bitcoin Cash (BCH) । অন্যদিকে, মূল বিটকয়েন (BTC) তার আগের নিয়মেই অপরিবর্তিত থাকে .ফ্রি কয়েন বিতরণ: এই ফোর্কটি হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত (ব্লক নম্বর ৪,৭৮,৫৫৮) উভয় চেইনের ইতিহাস সম্পূর্ণ এক ছিল । ফলে ১ আগস্টের আগে যাদের কাছে ১টি আসল বিটকয়েন (BTC) ছিল, ফোর্ক হওয়ার পর তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনামূল্যে সমপরিমাণ ১টি বিটকয়েন ক্যাশ (BCH) কয়েনও পেয়ে যান ।পরবর্তীতে বিটকয়েন ক্যাশের ভেতরেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এটি আরও দুইবার ফোর্ক হয়—একবার নভেম্বর ২০১৮ সালে (যা থেকে Bitcoin SV তৈরি হয়) এবং দ্বিতীয়বার নভেম্বর ২০২০ সালে (যা থেকে eCash বা BCH ABC তৈরি হয়) এখন আপনারা দেখেন যে,হার্ড ফর্কের ফলে একটি নতুন নেটওর্য়াক বা চেন তৈরী হয়,কিন্তু আগের আসল বিটকয়েন এর চেন ঠিকই আছে,এবং সেটিই আসল হওয়ায় এর মান সামনের বিশ্বে আরো বাড়বে.কিন্ত যেগুলো হার্ড ফর্ক হয় ,সেগুলো,আসল বিটকয়েনের মতো বিকেন্দ্রীভূত না হওয়ায় ,অর্থাৎ এর কন্ট্রোল কিছু বেবসা প্রতিষ্টানের কাছে থাকায়,সাধারণ মানুষের কাছে এর কন্ট্রোল না থাকায়,এর ওপরে আসল বিটকয়েনের মতো কেউ আস্থা রাখতে পারে না,তাই এরকম ফর্ক ভবিষ্যতে যদি আরো হয়,তাহলে সেগুলো ড্যামেজ হয়ে যাবে বা এর ম্যান কমে যাবে,আর এগোলো যেহেতো আরো বিটকয়েন তৈরী করা যায়,তাই এগোলো অনেকটা ফিয়াট কারেন্সির মতো,কিন্তু সেটি আসল বিটকয়েন না.তাই আসল বিকীনের এই চিরন্তন সত্য আর আস্থার কারণে আর বিকেন্দ্রিকের কারণে জরা এর আসল চেন থেকে বাহির হয়ে গেইছিলো তারা আবার আসল চাইনে ফায়ার আসবে.কারণ আসল চীনের আসল বিটকয়েন ই হয়েছে প্রকৃত ডিজিটাল গোল্ড.


এখন আবার এইটা বলতে পারেন যে পি 2 পি আবার কি?


P2P (Peer-to-Peer) নেটওয়ার্ক কী?

সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবস্থায় (যেমন ফেসবুক বা ইউটিউব) একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে। আমরা যখন কোনো ছবি বা ভিডিও দেখি, তখন আমাদের কম্পিউটার (Client) সেই মূল সার্ভার (Server) থেকে তথ্য এনে আমাদের দেখায়। একে বলা হয় ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেল।কিন্তু P2P নেটওয়ার্কে কোনো কেন্দ্রীয় মাস্টার বা প্রধান সার্ভার থাকে না। এখানে নেটওয়ার্কের

সাথে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার বা নোড একই সাথে একজন 'ক্লায়েন্ট' এবং একজন 'সার্ভার'। অর্থাৎ, নেটওয়ার্কের প্রতিটি মেম্বার বা সমকক্ষ (Peer) একে অপরের সাথে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদান করে। তথ্য পাওয়ার জন্য কাউকে কোনো সেন্ট্রাল বা মাঝখানের কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করতে হয় না।এখন ইটা বলতে পারেন যে এই নেটওর্য়াক কি ডেস্ট্রয় করা যায় না.একদম সোঝা উত্তর "না "

কেন P2P নেটওয়ার্ক ধ্বংস (Destroy) করা অসম্ভব?

১. কোনো একক দুর্বলতার কেন্দ্রবিন্দু নেই (No Single Point of Failure):ফেসবুক বা কোনো ব্যাংকের প্রধান সার্ভার বা ডেটা সেন্টারে যদি আগুন লাগে, হ্যাকাররা অ্যাটাক করে অথবা সরকার যদি সেটি সিলগালা করে দেয়, তবে পুরো কোম্পানি এক মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু P2P নেটওয়ার্কে কোনো 'প্রধান সার্ভার' বা কেন্দ্রই নেই। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এই নেটওয়ার্কের কপি চলছে। একটি বা এক হাজারটি কম্পিউটার ধ্বংস করলেও বাকি লাখ লাখ কম্পিউটার সচল থাকবে।

২. ভৌগোলিক সীমানাহীনতা (Geographically Distributed):বিটকয়েনের এই P2P নোডগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের অধীনে নয়। এগুলো আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া থেকে শুরু করে আমাজনের জঙ্গল কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘরে ঘরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে। কোনো দেশের সরকার যদি তাদের সীমানার ভেতরের সমস্ত নোড বন্ধও করে দেয়, তবুও দেশের বাইরের অন্য নোডগুলোর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের চেইনটিব্যাকআপ হিসেবে একদম সুরক্ষিত থাকবে।

৩. স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গঠন ক্ষমতা (Self-Healing Network):P2P নেটওয়ার্কের সফটওয়্যারগুলো এমনভাবে তৈরি যে, যদি হঠাৎ করে মাঝখান থেকে ১০০টি নোড বন্ধ হয়ে যায়, তবে বাকি নোডগুলো আটকে যায় না। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্কে থাকা অন্য নতুন নোডগুলোর সাথে কানেক্ট হয়ে যায় এবং ডেটা শেয়ার করা চালু রাখে। নেটওয়ার্কটি নিজে থেকেই নিজের ক্ষত সারিয়ে নিতে পারে।

৪. ব্লক করা বা ফিল্টার করা অসম্ভব:সরকার যদি কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট (যেমন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ) ব্লক করতে চায়, তবে তারা আইপি অ্যাড্রেস বা ডোমেইন নাম ব্লক করে দেয়। কিন্তু P2P নেটওয়ার্কে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কম্পিউটার একে অপরের সাথে সাধারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলে। এদের ট্রাফিককে আলাদা করে চেনা বা ব্লক করা প্রায় অসম্ভব, কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট একটি লিঙ্কের মাধ্যমে চলে না। বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেয়া হলো :- একটি বড় বড় বিল্ডিংয়ের পানির লাইনে যদি একটিমাত্র মেইন পাম্প থাকে, তবে সেই পাম্পটি ভেঙে দিলে পুরো বিল্ডিংয়ের পানি বন্ধ হয়ে যাবে (এটি হলো সেন্ট্রাল সার্ভার)। কিন্তু যদি বিল্ডিংয়ের প্রতিটি ফ্ল্যাটের নিজস্ব ছোট ছোট পাম্প থাকে এবং তারা একে অপরের সাথে পাইপ দিয়ে যুক্ত থাকে, তবে ২-৩টি ফ্ল্যাটের পাম্প নষ্ট হলেও বাকিরা একে অপরকে পানি দিয়ে সচল রাখতে পারবে (এটিই হলো P2P নেটওয়ার্ক)।


উপরোক্ত আলোচনা গুলো থেকে এইটা আমরা নিশ্চিত হতে পারলাম যে বিটকয়েন শুধু একটি মুদ্রায় নয়,বরং মানুষের জানমালের নিরাপত্তার একটি অন্যতম মাদ্ধম .এটি বর্তমানে বিশ্বের স্রেষ্ট ধর্ম ইসলামেও স্বীকৃত প্রাপ্ত এবং বিটকাইনকে বলা হয়েছে ডিজিটাল গোল্ড.তাই এটি ভূ -রাজনীতিতে অনেক ভালো অবদান রাখবে আর সামনের ওয়ার্ল্ডে এর চাহিদা থাকবে তুঙ্গে .আগামী আলোচনায় আমরা জন্য যে,কেন এর চাহিদা বাড়বে আর ভূ -রাজনীতি তে এর অবদান কি হবে?হতে পারে অর্থনৈতিক ভাবে এই বিটকাইনি একটি বোরো সাম্রাজ্যের উত্থান এর কারণ,যেই সাম্রাজ্য টানা 1500 বছর বিশ্ব শাসন করে ছিল.